পুরুষদের হালকা শীতের ফ্যাশন

পুরুষদের হালকা শীতের ফ্যাশন

পুরুষদের হালকা শীতের ফ্যাশন

হালকা শীতের দিনগুলোতে সাজটা বেশি জাঁকজমকপূর্ণ না হলেও চলে বরং প্রয়োজন সিম্পল, ক্লিন আর স্মার্ট লুক। এই সময়টা এমন যখন দুপুরে রোদে গরম আর সন্ধ্যায় আসে ঠাণ্ডা বাতাস, তাই পোশাকে দরকার একটু হালকা আর ভারি ব্যালেন্স। এই সময়ের ফ্যাশনে মূল লক্ষ্য থাকে সহজ, আরামদায়ক আর পরিপাটি লুক তৈরি করা। তাই যারা স্টাইল নিয়ে সচেতন, তাদের জন্যই আজকের আয়োজনে থাকছে পুরুষদের হালকা শীতের ফ্যাশন কেমন হওয়া উচিত। ডেইলি লুক থেকে টুর বা বিকেলের আড্ডা – সব ধরনের মুহূর্তের জন্য সিম্পল কিন্তু স্টাইলিশ সাজের আইডিয়া।

পুরুষদের হালকা শীতের ফ্যাশনে রঙ, ফ্যাব্রিক ও প্রিন্টের ট্রেন্ড

হালকা শীতে পুরুষদের ফ্যাশন এখন অনেক বেশি হালকা, স্বস্তিদায়ক এবং প্রাকৃতিক লুকের দিকে ঝুঁকছে। রঙের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে আর্দি ও শান্ত টোনের দারুণ প্রভাব। গাঢ় চকোলেট বাদামি, মাখন বাদামি, ধূসর বাদামি, ফ্যাকাশে বেইজ আর ইস্পাত ধূসর এই মৌসুমে বেশ জনপ্রিয়। নেভি, হালকা আকাশি নীল আর দুধ সাদা লুকেও আসবে পরিষ্কার ও ফ্রেশ ফিল। আবার যারা একটু বেশি উজ্জ্বলতা পছন্দ করেন, তাদের জন্য আছে গভীর মরিচ লাল, টাটকা লেবু সবুজ, হালকা লেবু হলুদ আর উজ্জ্বল কমলার ছোঁয়া। এই রঙগুলো পরলে শীতের নরম আবহাওয়ায় লুক হবে ব্যালান্সড, ট্রেন্ডি এবং সহজে ম্যাচ করা যায় এমন।

ফ্যাব্রিকের কথায় এলে, আরামের বিষয়টাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নরম কটন ও ফ্লিস, লাইট নিট আর জার্সি ফেব্রিক সবই হালকা শীতের জন্য পারফেক্ট। এগুলো পরে সারাদিন স্বস্তি পাওয়া যায়, আবার লেয়ারের মাধ্যমে গরমও রাখা যায়। পাশাপাশি ডেনিমের উপস্থিতি এখনও স্টাইল ধরে রেখেছে, বিশেষ করে ডেনিম জ্যাকেট বা শার্টে। আর যারা একটু স্ট্রাকচার্ড লুক চান, তাদের জন্য লাইট পাফার আর কুইল্টেড ডিটেইলস দারুণ মানাবে। এতে আরাম থাকে, আর লুকও হয় আধুনিক।

প্রিন্টে এই শীতের ট্রেন্ড কম গ্ল্যামার, নিউট্রাল সলিড এবং ক্লাসি ভিজ্যুয়াল। হালকা স্ট্রাইপস বা ছোট ডিটেইল দেওয়া প্রিন্ট এখন অনেক জনপ্রিয়, কারণ এগুলো লুককে সিম্পল রেখে একটি পরিষ্কার সাজ দেয়। টাইপোগ্রাফিক বা ছোট স্টেটমেন্ট প্রিন্ট পুরুষদের কাছে এখনো আকর্ষণীয়, তবে তা হচ্ছে মিনিমাল ডিজাইনে। পাশাপাশি চেক, প্লেইড, হাউন্ডস টুথ আর প্রিন্স অফ ওয়েলস – এই ক্লাসিক শীতের প্যাটার্নগুলো আবার ফিরে এসেছে। একে মনোক্রোম টোনে পরলে স্টাইল হয় আরও সুন্দর ও গুছানো।

সারসংক্ষেপে, এই মৌসুমে ট্রেন্ড হচ্ছে স্বাভাবিক, হালকা এবং পরিষ্কার ডিজাইনের দিকে। এমন রঙ, ফেব্রিক আর প্রিন্ট বেছে নিন যা আরাম দেয়, সহজে ম্যাচ করা যায় এবং আপনার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করে, তাহলেই হালকা শীতের লুক হবে একদম পরিপাটি ও স্টাইলিশ, কোনোরকম বাড়তি চেষ্টা ছাড়াই।

 

ডেইলি মিনিমাল লুক

ডেইলি মিনিমাল লুক হলো এমন একটি স্টাইল যেখানে কম পোশাকেই পরিচ্ছন্ন ও গুছানো উপস্থিতি তৈরি করা যায়। হালকা শীতে দিনের বেশিরভাগ সময়ই আরামদায়ক তাপমাত্রা থাকে, তাই ভারী পোশাকের দরকার নেই। একরঙা ফুল হাতা টিশার্ট বা সিম্পল পোলো শার্ট হতে পারে এই লুকের মূল বেস। সাদা, কালো, ধূসর, নেভি, বেইজ বা বাদামি মতো নিরপেক্ষ রঙগুলো সবচেয়ে ভালো মানায়, কারণ এগুলো সহজে সব কিছুর সাথে মেলে এবং লুককে দেয় শান্ত-স্মার্ট অনুভূতি।

এগুলোর সাথে ভালো ফিটের জিন্স বা চিনোস প্যান্ট পরলে লুক আরও সুন্দর করে ফুটে ওঠে। অতিরিক্ত ডিজাইন, বড় প্রিন্ট এড়িয়ে সিম্পল সলিড বা হালকা টেক্সচারের পোশাক বেছে নিলে সাজ হয় অনেক বেশি এলিগেন্ট। দিনের সময় যদি একটু ঠাণ্ডা লাগে, তাহলে পাতলা নিট সোয়েটার বা হালকা সোয়েটশার্ট যোগ করতে পারেন। লেয়ারের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো শরীর যেন আরাম বোধ করে এবং কাপড় যেন দেখতে গুছানো লাগে। তাই ওভারসাইজ না হয়ে রেগুলার বা স্লিম ফিট বেছে নেওয়া ভালো।

অ্যাক্সেসরিজে মিনিমাল থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। একটি সিম্পল ঘড়ি, পাতলা স্কার্ফ বা বিনি লুককে আরও পরিপাটি দেখাতে সাহায্য করে, তবে এগুলো যেন পোশাকের সাথে শান্তভাবে মিশে যায়। জুতায় সাদা বা নিউট্রাল স্নিকার্সই সবচেয়ে ভালো ক্লিন, কমফর্টেবল এবং স্টাইলিশ। চাইলে লোফার বা ডেজার্ট বুটও ব্যবহার করা যায় যদি একটু বেশি ফরমাল ফিল আনতে চান।

এই মিনিমাল লুক অফিস, ইউনিভার্সিটি, ক্যাজুয়াল আউটিং থেকে শুরু করে বন্ধুর সাথে কফি মিট-আপ, সব জায়গার জন্য একদম উপযুক্ত। সাজের তেমন কোনো বাড়তি ঝামেলা নেই, তবুও লুক সবসময় থাকে সতেজ, পরিষ্কার এবং মানানসই। কম চেষ্টা, বেশি স্টাইল ডেইলি মিনিমাল লুকের সবচেয়ে বড় শক্তি এটিই।

 

বিকালের ঠান্ডা বাতাসে আড্ডা বা গেদারিং লুক

বিকেলের সময়টা সবসময়ই একটু স্পেশাল হালকা ঠাণ্ডা বাতাস, নরম আলো, আর সাথে প্রিয় মানুষদের সাথে আড্ডা বা ছোটখাটো গেদারিং। তাই এই সময়ের লুকও হওয়া উচিত আরামদায়ক, স্বাভাবিক, কিন্তু স্টাইলিশ। শীত পুরোপুরি জমেনি, তাই অতিরিক্ত লেয়ারের দরকার নেই। বরং স্মার্ট এবং হালকা লেয়ারিং এই লুককে আরো সুন্দর করে তুলে ধরে।

উপরে কী পরবেন

বেস হিসেবে সিম্পল ফুল হাতা টি-শার্ট বা পোলো শার্ট নিন। এরপর তার উপর লাইট সোয়েটার বা ক্যাজুয়াল শার্ট পরতে পারেন। রঙে খুব বেশি চমক না এনে নিউট্রাল ও শান্ত টোন বেছে নিবেন, কালো, নেভি, ধূসর, বেইজ বা নরম বাদামি। এতে লুক হবে ক্লিন, সেন্সিবল এবং সবার চোখে সুন্দর। যদি আরেকটু স্মার্টনেস অ্যাড করতে চান, তাহলে হালকা বোম্বার ও ডেনিম জ্যাকেট বেছে নিতে পারেন।

বটম জুতায় আরাম

প্যান্ট হিসেবে গাঢ় রঙের গুড ফিট জিন্স বা চিনো বেছে নিলে সবচেয়ে ভালো। এগুলো সহজেই যে কোনো কিছুর সাথে মানিয়ে যায়। জুতায় সাদা বা নিউট্রাল স্নিকার্স সবসময়ই সেফ চয়েস। আপনি চাইলে লেদার লোফার বা চেলসি বুটও পরতে পারেন যদি আড্ডার জায়গা একটু ক্লাসি হয়। যেখানেই যান না কেন আরাম যেন থাকে, কারণ বিকেলের প্লান সাধারণত দীর্ঘ হয়!

অ্যাক্সেসরিজে সিম্পল কিন্তু ইফেক্টিভ

বাতাস একটু বেশি থাকলে পাতলা স্কার্ফ বা মাফলার যোগ করতে পারেন। এতে শুধু ঠাণ্ডা এড়ানোই নয়, পুরো লুকে একটা সুন্দর স্টাইল টাচ সৃষ্টি হয়। বিনি বা ক্যাপ হালকা শীতের জন্য পারফেক্ট, বিশেষ করে আউটডোর আড্ডায়। আর হাতঘড়ি এই ধরনের লুকে সবসময় মানায় সিম্পল স্টিল বা লেদার স্ট্র্যাপের ঘড়িই বেশি ভালো।

মিনিমাল লুকের সৌন্দর্য হলো এর প্রাকৃতিক, স্বাভাবিক এবং বন্ধুসুলভ আবহ বা ভাইব। চমকপ্রদ কিছু নয়, কিন্তু দেখলে যেন মনে হয় “হালকা কিন্তু স্মার্ট।” সাজে বেশি ভাবনা না রেখে, পরিষ্কার ও গুছানো থাকাটাই মূল কথা।

আড্ডা, পার্কে হাঁটা, ক্যাফেতে বসে গল্প করা, কিংবা সানসেট দেখা সব জায়গাতেই এই লুক মানিয়ে যায়। এমন আউটলুক শীতের এই সময়ে আপনাকে শুধু উষ্ণই রাখবে না, দেখাবে রিল্যাক্সড, আত্মবিশ্বাসী এবং স্টাইল সচেতন। ট্রাই করে দেখতেই পারেন একবার!

 

হালকা শীতে পুরুষদের টুর লুক

শীত মানেই শুধু ভারী পোশাক নয় হালকা শীতের টুরে চাই আরাম, চলাচলের সুবিধা আর সাথে স্মার্ট লুক। সকালে কুয়াশা, দুপুরে হালকা রোদ আর বিকেলে ঠান্ডা এই মিশ্র আবহাওয়ায় তাই বহুমুখী আউটফিটই সেরা সঙ্গী।

আরামদায়ক লেয়ারিং

ট্রাভেলে অতিরিক্ত পোশাকের ঝামেলা না করেই স্মার্ট থাকতে চাইলে একটি সলিড টিশার্টের সাথে হালকা জ্যাকেট বা জিপার জ্যাকেট দারুণ অপশন। দরকার হলে খুলে রাখা যাবে, আবার ঠান্ডা লাগলে দ্রুত পরে নেওয়া যায়। রঙের মধ্যে নিউট্রাল টোন গ্রে, অলিভ, নেভি বা বেজ টোন এই লুককে আরও ক্লিন রাখবে।

ক্যাজুয়াল প্যান্টস

ট্রাউজার বা চিনোস প্যান্ট ভ্রমণে সবচেয়ে আরামদায়ক ও স্মার্ট। যাদের মুভমেন্ট বেশি, তারা স্ট্রেইট কাট বা স্লিম ফিট বেছে নিলে ভালো। চাইলে জগার্সও নিতে পারেন বিশেষ করে যারা লং ওয়াকিং বা রিসোর্ট সাইডে রিল্যাক্স টাইম প্ল্যান করেন।

আরামদায়ক জুতো

টুর মানেই হাঁটা, ঘোরাঘুরি আর ছবি তোলা। স্নিকারস ভ্রমণে বেস্ট দেখতে ট্রেন্ডি, পরে আরাম আর যেকোনো আউটফিটের সাথে ম্যাচ করবে।

প্রয়োজনীয় এক্সেসরিজ

ভ্রমণে সাথে একটা স্লিং ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক নিলে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখা সহজ হয়। চাইলে হালকা ক্যাপ বা বিনি নিতে পারেন সকালের ঠান্ডায় আর ছবিতে স্মার্ট লুক আসবে।

রঙের মুড

শীতের ট্রাভেল লুকের রঙ হওয়া উচিত নরম আর আর্থি টোনে। অলিভ, ব্রাউন, ডার্ক গ্রিন, মারুন বা ব্ল্যাক এগুলো ক্যামেরা ফ্রেন্ডলি এবং ট্রাভেল ভাইব তুলে ধরে ভালোভাবে।

সর্বোপরি, টুর লুকের মূল কথা কমফোর্ট, ফ্লেক্সিবিলিটি আর ক্লিন স্টাইল। তাই পোশাক যেন হালকা, ব্রিদেবল এবং সহজে লেয়ার করা যায় এমনই হওয়া ভালো। এতে পুরো ট্রিপ জুড়ে স্টাইলিশ থাকার সাথে সাথে এনার্জিও থাকবে ফ্রেশ!

হালকা শীতের দিনে পুরুষদের ফ্যাশনে মূল চাওয়া আরাম আর স্মার্টনেসের সহজ মিশেল। সকাল–বিকেল তাপমাত্রার ওঠানামায় লেয়ারিং, আরামদায়ক ফেব্রিক, সিম্পল রঙ আর প্র্যাকটিক্যাল এক্সেসরিজই লুককে করে তোলে বেশি মানানসই। ডেইলি মিনিমাল লুক থেকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা টুর প্রতিটি উপলক্ষেই সঠিক বেসিকস আর হালকা স্টাইল টাচ দিয়ে তৈরি করা যায় স্মার্ট, সহজ ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি। শেষ পর্যন্ত পোশাকটা যেন এমন হয় যা আপনাকে স্বস্তি দেয়, স্টাইলটা হয় আপনার নিজস্ব – তবেই হালকা শীতের ফ্যাশন সত্যিই উপভোগ্য হবে।

  • ফাতেমাতুজ্জোহরা আফিয়া
  • No products in the cart.
Filters