বর্তমান সময়ের ফ্যাশনে হিজাব স্টাইল শুধু একটি প্রয়োজনীয় পোশাকের অংশ নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি সুন্দর মাধ্যম। প্রতিদিনের ক্যাজুয়াল লুক হোক বা বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান, সঠিক ড্রেপ, মানানসই রঙ আর ফেসশেপ অনুযায়ী স্টাইলিং আপনার পুরো লুককে করে তুলতে পারে আরও আকর্ষণীয় ও আত্মবিশ্বাসী।
এই ব্লগে আপনি জানতে পারবেন আধুনিক হিজাব স্টাইল করার সহজ উপায়, ট্রেন্ডিং ড্রেপিং টেকনিক, কোন আউটফিটের সাথে কোন রঙের হিজাব মানায়, আর কিভাবে নিজের ফেসশেপ অনুযায়ী পারফেক্ট লুক তৈরি করবেন। আপনার দৈনন্দিন সাজ থেকে ফেস্টিভ লুক, সব কিছুর জন্যই এখানে থাকছে স্টাইলিং গাইড।
হিজাব স্টাইল কেন এখন ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
আগে হিজাবকে শুধু প্রয়োজন বা ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। হিজাব (Hijab/Scarf) স্টাইল আজকের ফ্যাশন জগতে একটি শক্তিশালী ট্রেন্ড। যেখানে কমফোর্ট, এলিগেন্স আর ব্যক্তিত্ব, সবকিছু একসাথে প্রকাশ পায়।
ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যম
বর্তমানে হিজাব শুধু কভারেজ নয় বরং নিজের স্টাইল ও রুচি প্রকাশের একটি সুন্দর উপায়। ড্রেপিং স্টাইল, ফেব্রিক বা রঙ, সবকিছু মিলিয়ে নারীরা এখন তার নিজস্ব লুক তৈরি করতে পারেন।
মডেস্ট ফ্যাশনের গ্লোবাল ট্রেন্ড
মডেস্ট ফ্যাশন এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতেও হিজাব স্টাইলকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন নতুন ডিজাইন, ফেব্রিক ও ড্রেপিং ট্রেন্ড তৈরি হচ্ছে। ফলে হিজাব এখন স্টাইলিশ ও আধুনিক ফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কমফোর্ট ও স্টাইল একসাথে
অনেকেই এখন এমন ফ্যাশন চান যা দেখতে সুন্দর, আবার পরতেও আরামদায়ক। হিজাব সেই ব্যালান্সটা খুব সহজেই তৈরি করে। সফট ফেব্রিক, পিনলেস ড্রেপ বা লাইটওয়েট স্টাইল, সবকিছু মিলিয়ে এটি দৈনন্দিন জীবনের জন্য পারফেক্ট।
আউটফিট কমপ্লিট করার স্মার্ট উপায়
একটি সুন্দর হিজাব পুরো লুককে বদলে দিতে পারে। সঠিক রঙ ও ড্রেপিং আপনার পোশাককে আরও এলিগেন্ট ও স্টাইলিশ করে তোলে। তাই এখন হিজাব শুধু অ্যাক্সেসরি নয়, পুরো আউটফিটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সব বয়স ও সব উপলক্ষের জন্য মানানসই
ক্যাজুয়াল আউটিং, অফিস, পার্টি বা ফেস্টিভ, সব জায়গাতেই হিজাব স্টাইল সহজে মানিয়ে যায়। বয়স বা স্টাইল যাই হোক, সবার জন্যই আছে আলাদা আলাদা স্টাইলিং অপশন।
হিজাব ফ্যাশন: বর্তমান ট্রেন্ড ও জনপ্রিয় লুক
ফ্যাশন সবসময় পরিবর্তনশীল, আর সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে হিজাব ফ্যাশনেও। আগের তুলনায় এখন হিজাব স্টাইল আরও আধুনিক, আরামদায়ক এবং বহুমুখী হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন ড্রেপিং টেকনিক, সফট ফেব্রিক আর স্টাইলিশ কালার কম্বিনেশন, সব মিলিয়ে হিজাব এখন ফ্যাশনের অন্যতম ট্রেন্ডিং অংশ।
মিনিমাল ও ক্লিন লুক
বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন্ডগুলোর একটি হলো মিনিমাল হিজাব স্টাইল। কম ভাঁজ, সফট ড্রেপ আর নিউট্রাল রঙ, এই লুকটি দেখতে খুবই এলিগেন্ট ও স্মার্ট লাগে। অফিস, ইউনিভার্সিটি বা ডেইলি আউটিং, সব জায়গাতেই এটি পারফেক্ট।
লেয়ার্ড ও ফ্লোই ড্রেপ
যারা একটু স্টাইলিশ ও ভলিউমিনাস লুক পছন্দ করেন, তাদের জন্য লেয়ার্ড হিজাব খুব ট্রেন্ডিং। একাধিক ভাঁজ বা লেয়ার তৈরি করে হিজাব ড্রেপ করলে লুক আরও ডাইমেনশনাল ও ফ্যাশনেবল দেখায়। বিশেষ করে পার্টি বা ফেস্টিভ লুকে এটি খুব জনপ্রিয়।
ক্যাজুয়াল বনাম পার্টি হিজাব স্টাইল
ক্যাজুয়াল লুক: সফট ফেব্রিক, সিম্পল ড্রেপ, লাইট কালার
পার্টি বা ফরমাল লুক: সাটিন বা সিল্ক ফিনিশ ফেব্রিক, নিট ড্রেপিং, স্টেটমেন্ট কালার
এখন একই হিজাব বিভিন্নভাবে ড্রেপ করে সহজেই ক্যাজুয়াল থেকে ফরমাল লুক তৈরি করা যায়।
আবায়া বা বোরকা হিজাব স্টাইল – স্মার্ট ও এলিগেন্ট কম্বিনেশন
আবায়া (Abaya) বা বোরকার সাথে হিজাব স্টাইল এখন আরও ফ্যাশনেবল হয়ে উঠেছে। মনোক্রোম লুক, কনট্রাস্ট কালার হিজাব বা সফট লেয়ারিং, এসব স্টাইল বোরকার লুককে আরও স্টাইলিশ ও মডার্ন করে তোলে।
শাড়ির সাথে হিজাব – এলিগেন্ট ও ট্র্যাডিশনাল কম্বিনেশন
শাড়ির সাথে হিজাব স্টাইল এখন আরও ফ্যাশনেবল ও এলিগেন্ট দেখাতে পারে। সিম্পল শাড়ি হলে স্টেটমেন্ট হিজাব কালার বা ফ্লোই ড্রেপ ব্যবহার করুন, আর ফেস্টিভ বা ডিজাইনড শাড়ির সাথে হালকা প্যাস্টেল বা কনট্রাস্ট হিজাব মিলিয়ে নিন। এই কম্বিনেশন শাড়ির লুককে আরও স্টাইলিশ, গ্রেসফুল ও মডার্ন করে তোলে।
কালার ট্রেন্ড
বর্তমানে খুব জনপ্রিয় কিছু হিজাব কালার ট্রেন্ড হলো – প্যাস্টেল শেড (লাইট পিংক, মিন্ট, বেবি ব্লু), আর্থি টোন (বেইজ, অলিভ, ব্রাউন), ক্লাসিক নিউট্রাল (ব্ল্যাক, হোয়াইট, গ্রে)। এই রঙগুলো সহজেই বিভিন্ন আউটফিটের সাথে ম্যাচ করে এবং লুককে দেয় সফট ও এলিগেন্ট ফিনিশ।
মডার্ন হিজাব ড্রেপিং: পিনলেস ও সহজ টেকনিক
বর্তমান সময়ের হিজাব স্টাইল-এ সবচেয়ে জনপ্রিয় ট্রেন্ডগুলোর একটি হলো পিনলেস ও সহজ ড্রেপিং। আগে হিজাব পরতে অনেক পিন, সময় আর ঝামেলা লাগত। কিন্তু এখন স্মার্ট ড্রেপিং টেকনিকের কারণে খুব কম সময়েই স্টাইলিশ ও নিট লুক তৈরি করা যায়। আর সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো, এই স্টাইলগুলো আরামদায়ক এবং সারাদিন পরলেও কমফোর্টেবল থাকে।
পিনলেস হিজাব ড্রেপ কেন এত জনপ্রিয়
পিন ছাড়া হিজাব ড্রেপ করলে – দ্রুত স্টাইল করা যায়, চুল বা ফেব্রিকের ক্ষতি কম হয়, লুক থাকে সফট ও ন্যাচারাল এবং সারাদিন কমফোর্টেবল লাগে। বিশেষ করে ডেইলি লাইফে ব্যস্ত মানুষদের জন্য এটি খুবই সুবিধাজনক।
- সহজ পিনলেস হিজাব ড্রেপ (ডেইলি স্টাইল)
১. একটি লং স্কয়ার বা রেকট্যাঙ্গুলার হিজাব নিন।
২. মাথার উপর রেখে দুই পাশ সমান বা এক পাশ একটু লম্বা রাখুন।
৩. লম্বা অংশটি গলার চারপাশে ঘুরিয়ে কাঁধে ফেলে দিন।
৪. প্রয়োজন হলে হালকা করে সেট করে নিন – ব্যস, হয়ে গেল সিম্পল এলিগেন্ট লুক।
এই স্টাইল অফিস, ইউনিভার্সিটি বা ক্যাজুয়াল আউটিং, সব জায়গার জন্য পারফেক্ট।
- লেয়ার্ড পিনলেস ড্রেপ (স্টাইলিশ লুক)
যারা একটু ভলিউম বা ফ্যাশনেবল লুক চান, তারা লেয়ার তৈরি করে ড্রেপ করতে পারেন।
১. হিজাব একটু ঢিলাভাবে জড়ান
২. সামনের অংশে নরম ভাঁজ রাখুন
৩. কাঁধে ফেলা অংশটি লেয়ার করে সাজান
এতে লুক আরও ট্রেন্ডি ও ডাইমেনশনাল দেখায়।
- ফরমাল বা পার্টি হিজাব ড্রেপ
স্পেশাল অনুষ্ঠানের জন্য পিনলেস ড্রেপও হতে পারে খুব এলিগেন্ট।
১. সফট সাটিন বা সিল্ক ফিনিশ ফেব্রিক ব্যবহার করুন
২. নিট ও স্মুথ ড্রেপ রাখুন
৩. কাঁধে ফ্লোই ফল তৈরি করুন
এতে খুব সহজেই তৈরি হয় গ্রেসফুল ও ফেস্টিভ লুক।
- পারফেক্ট ড্রেপের জন্য ছোট কিছু টিপস
১. সফট ও নন-স্লিপ ফেব্রিক বেছে নিন
২. খুব টাইট বা খুব ঢিলা না করে ব্যালান্স রাখুন
৩. মুখের ফ্রেম সুন্দর দেখাতে সামনের ড্রেপ ঠিক করুন
৪. প্রয়োজনে আন্ডারক্যাপ ব্যবহার করলে স্টাইল আরও নিট থাকে

হিজাব পরার নিয়ম বা হিজাব বাধার নিয়ম (স্টেপ বাই স্টেপ)
সুন্দর ও নিট হিজাব স্টাইল তৈরি করার জন্য সঠিকভাবে হিজাব পরা বা বাধার নিয়ম জানা খুব গুরুত্বপূর্ণ। নতুনদের জন্য এটি শুরুতে একটু কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করলে খুব সহজেই পারফেক্ট ড্রেপ করা যায়।
নিচে দেওয়া হলো একটি সহজ ও বেসিক স্টেপ বাই স্টেপ গাইড:
ধাপ ১: হিজাব ও আন্ডারক্যাপ প্রস্তুত করুন
প্রথমে একটি আন্ডারক্যাপ (যদি ব্যবহার করেন) পরে নিন। এতে হিজাব স্লিপ করবে না এবং সারাদিন ঠিক থাকবে। এরপর আপনার পছন্দের হিজাব বা স্কার্ফটি নিন।
ধাপ ২: মাথার উপর হিজাব সেট করুন
হিজাবটি মাথার উপর রাখুন এবং দুই পাশ সমান বা এক পাশ একটু লম্বা রাখুন। কপালের সামনে অংশটি সুন্দরভাবে ফ্রেম করে নিন।
ধাপ ৩: এক পাশ গলার চারপাশে ঘুরান
লম্বা অংশটি গলার চারপাশে নিয়ে অন্য কাঁধে ফেলে দিন। এতে হিজাব সুন্দরভাবে সেট হবে এবং লুক আরও এলিগেন্ট দেখাবে।
ধাপ ৪: ড্রেপ ঠিক করে নিন
সামনের অংশে হালকা ভাঁজ বা লেয়ার ঠিক করুন। খুব টাইট বা খুব ঢিলা না করে ব্যালান্স রাখুন যাতে আরামদায়ক লাগে।
ধাপ ৫: প্রয়োজনে ফাইনাল সেটিং
পিন ব্যবহার করলে হালকা করে সেট করতে পারেন, তবে চাইলে পিনলেসভাবেও রাখতে পারেন। শেষে আয়নায় দেখে পুরো লুক ঠিক করে নিন।
সঠিকভাবে হিজাব পরার নিয়ম জানলে খুব সহজেই প্রতিদিন স্টাইলিশ ও পরিপাটি হিজাব স্টাইল তৈরি করা সম্ভব। নিয়মিত প্র্যাকটিস করলে আপনি নিজের জন্য সবচেয়ে মানানসই ড্রেপিং স্টাইল খুঁজে নিতে পারবেন।

কোন কালারের সাথে কোন কালার হিজাব মানায়
সুন্দর হিজাব স্টাইল তৈরি করতে শুধু ড্রেপিং জানলেই হয় না, সঠিক রঙ বাছাই করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। আউটফিটের সাথে মানানসই হিজাব কালার পুরো লুককে করে তোলে ব্যালান্সড, এলিগেন্ট ও স্টাইলিশ। তাই কোন পোশাকের সাথে কোন রঙের হিজাব মানাবে এটা জানা থাকলে স্টাইলিং অনেক সহজ হয়ে যায়।
নিচে সহজভাবে কিছু কালার ম্যাচিং গাইড দেওয়া হলো:
নিউট্রাল আউটফিটের সাথে হিজাব কালার
যদি আপনার পোশাক সাদা, কালো, বেইজ, ধূসর বা অন্য কোনো নিউট্রাল টোন হয়, তাহলে প্রায় সব রঙের হিজাবই মানিয়ে যায়। যেমন: সফট প্যাস্টেল হিজাব (পিংক, মিন্ট, স্কাই ব্লু), বোল্ড কালার (ম্যারুন, নেভি ব্লু, এমেরাল্ড), একই নিউট্রাল শেড (মনোক্রোম লুক)। টিপস: নিউট্রাল ড্রেসের সাথে কনট্রাস্ট হিজাব নিলে লুক বেশি চোখে পড়ে।
ব্রাইট বা গাঢ় আউটফিটের সাথে হিজাব কালার
যদি আপনার পোশাক খুব উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙের হয়, তাহলে ব্যালান্স রাখতে হিজাব একটু সফট বা নিউট্রাল রাখাই ভালো। যেমন: হালকা বেইজ বা ক্রিম, সফট প্যাস্টেল শেড। আউটফিটের রঙের হালকা বা ডার্ক ভ্যারিয়েশন, উদাহরণ: লাল ড্রেস + লাইট পিংক বা বেইজ হিজাব।
প্যাস্টেল আউটফিটের সাথে হিজাব কালার
সফট ও ফ্রেশ লুক পেতে প্যাস্টেল আউটফিটের সাথে হালকা বা একই টোনের হিজাব খুব সুন্দর লাগে। যেমন: একই কালার ফ্যামিলি (লাইট ব্লু + ডাস্টি ব্লু), হোয়াইট বা ক্রিম, সফট গ্রে বা বেইজ। এতে লুক খুব নরম ও এলিগেন্ট দেখায়।
আর্থি টোন আউটফিটের সাথে হিজাব কালার
ব্রাউন, অলিভ, মাস্টার্ড বা টেরাকোটা রঙের পোশাকের সাথে আর্থি বা উষ্ণ টোনের হিজাব সবচেয়ে বেশি মানায়। যেমন: বেইজ, ক্যামেল বা কফি শেড, ডিপ গ্রিন বা ম্যারুন, অফ-হোয়াইট। এই কম্বিনেশন খুব ন্যাচারাল ও ক্লাসি লুক দেয়।
স্কিন টোন অনুযায়ী হিজাব কালার বাছাই
শুধু আউটফিট নয়, স্কিন টোন অনুযায়ী রঙ বাছাই করলেও লুক আরও সুন্দর দেখায়। যেমন: ফেয়ার স্কিন: প্যাস্টেল, সফট পিংক, ল্যাভেন্ডার; মিডিয়াম স্কিন: অলিভ, টিল, মাস্টার্ড, ওয়ার্ম টোন; ডাস্কি স্কিন: জুয়েল টোন (এমেরাল্ড, ম্যারুন, রয়্যাল ব্লু)
পারফেক্ট কালার ম্যাচিংয়ের সহজ নিয়ম
- আউটফিটের সাথে ব্যালান্স রাখুন।
- একসাথে খুব বেশি উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার না করাই ভালো।
- কনট্রাস্ট ও হারমনি, দুটোর মধ্যে যেটা মানায় সেটি বেছে নিন।
- নিজের কমফোর্ট ও স্টাইল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক রঙের কম্বিনেশন আপনার পুরো হিজাব স্টাইল-কে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। তাই ছোট ছোট কালার ম্যাচিং টিপস ফলো করলেই সহজেই তৈরি করতে পারবেন স্মার্ট ও এলিগেন্ট লুক।

ফেসশেপ অনুযায়ী হিজাব স্টাইলিং টিপস
সুন্দর ও মানানসই হিজাব স্টাইল তৈরি করতে শুধু ফেব্রিক বা রঙ নয়, আপনার মুখের আকার বা ফেসশেপ অনুযায়ী হিজাব স্টাইলিং করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফেসশেপ অনুযায়ী হিজাব ড্রেপ করলে মুখের বৈশিষ্ট্যগুলো আরও সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে এবং পুরো লুক আরও ব্যালান্সড দেখায়।
রাউন্ড ফেসের জন্য হিজাব স্টাইল
- লম্বা লেয়ার বা সামনের অংশ হালকা ভাঁজ রাখুন
- সাইডে হালকা ঢিলা বা অ্যাঙ্গেল তৈরি করুন
- খুব টাইট বা সরাসরি ফ্রন্ট ড্রেপ এড়িয়ে চলুন
ফলাফল: মুখ দেখায় লম্বা ও স্লিম
ওভাল ফেসের জন্য হিজাব স্টাইল
- প্রাকৃতিক ও সিম্পল ড্রেপ সবসময় মানায়
- সামনের অংশ খুব ঢিলা না রেখে ব্যালান্স রাখুন
- যেকোনো ড্রেপিং স্টাইল ট্রাই করতে পারেন
ফলাফল: লুক হয় খুব এলিগেন্ট ও প্রফেশনাল
স্কয়ার ফেসের জন্য হিজাব স্টাইল
- চোয়াললাইন কমিয়ে দেখাতে সামনের অংশ হালকা ভাঁজ করুন
- হালকা লেয়ার বা প্যাটার্ন যোগ করতে পারেন
- সাইডে কিছু হেয়ার বা হালকা ভলিউম রাখলে লুক নরম দেখায়
ফলাফল: ফেসশেপ নরম ও ব্যালান্সড লাগে
লং ফেসের জন্য হিজাব স্টাইল
- সামনের অংশে ভলিউম বা হালকা ভাঁজ তৈরি করুন
- সাইডে ড্রেপ রাখলে লুক ব্যালান্সড হয়
- লম্বা সরাসরি ড্রেপ এড়িয়ে চলুন
ফলাফল: লুক হয় সুন্দর ও প্রাকৃতিক ব্যালান্সড
সঠিক ড্রেপ, রঙ ও ফেসশেপ অনুযায়ী হিজাব স্টাইলিং করলে লুক হয় স্টাইলিশ, এলিগেন্ট ও কমফোর্টেবল। নিজের আউটফিট ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিলিয়ে ছোট ছোট টিপস ফলো করলে আপনি সহজেই খুঁজে নিতে পারবেন আপনার পারফেক্ট হিজাব স্টাইল।
লেখক: ফাতেমাতুজ্জোহরা আফিয়া







