হিম শীতে শিশুর পোশাক আইডিয়া

হিম শীতে শিশুর পোশাক আইডিয়া

শীতে শিশুর পোশাক

হিম শীতে শিশুর পোশাক আইডিয়া ভাবতে গেলে সবার আগে আসে উষ্ণতা আর আরামের বিষয়টি। সারাদিন স্কুল, খেলাধুলা, দৌড়াদৌড়ি, তাই পোশাক যেন খুব ভারী বা অস্বস্তিকর না হয়। এমন পোশাক দরকার, যা ঠান্ডা থেকে বাঁচাবে, আবার নড়াচড়া করতেও কোনো সমস্যা হবে না। নরম ফেব্রিক, সহজ লেয়ারিং আর ব্যবহার উপযোগী ট্রেন্ডি ডিজাইন থাকলে শীতের দিনগুলো শিশুর জন্য হয়ে ওঠে আরামদায়ক আর মজার।

কি ধরনের ফেব্রিক বেছে নিবেন

শীতের জন্য শিশুর পোশাক ঠিক করার সময় ফেব্রিক বা কাপড়ের ধরন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ফেব্রিক শুধু গরম রাখে না, শিশুদের ত্বকেও নরম অনুভূতি দেয় এবং আরামদায়ক থাকে। যেমন:

১. উল (Wool)

উল শীতের হাঁড়কাঁপানো ঠান্ডায় থেকে শরীরের তাপ ধরে রাখতে অসাধারণ কাজ করে। বাচ্চাদের সোয়েটার, টুপি বা গ্লাভসের জন্য উল খুব জনপ্রিয় ফেব্রিক। এর সুবিধাগুলো হলো খুব গরম রাখে, দেহের তাপ ধরে রাখে, আরামদায়ক আর শীতে সবচেয়ে কার্যকরী। খেয়াল রাখার বিষয় হলো কিছু উল বাচ্চাদের ত্বকে চুলকানি তৈরি করতে পারে, তাই নরম বা ব্লেন্ড (উল+কটন বা ভিসকোস) বেছে নিলে ভালো।

শীতে শিশুর পোশাক

২. ফ্লিস (Fleece)

ফ্লিস হচ্ছে সিন্থেটিক ফেব্রিক, যেটা হালকা কিন্তু শরীরকে খুব গরম রাখে। বাইরের সোয়েটার বা মিড লেয়ারের জন্য ফ্লিস খুব উপযোগী। এর সুবিধাগুলো হলো হালকা ও নরম, দ্রুত শুষ্ক হয়, ত্বকে কোন চুলকানি তৈরি করে না। কিন্তু এই ফেব্রিকে খেয়াল রাখার বিষয় হলো খুব বেশি শীতে শুধু ফ্লিস যথেষ্ট নাও হতে পারে, তাই এর উপর দিয়ে আউটার লেয়ার দিতে হবে।

৩. পলি-উল বা ব্লেন্ড ফেব্রিক

পলি-উল মানে পলিয়েস্টার ও উলের মিশ্রণ। এই ফেব্রিকগুলোতে উলের গরম এবং পলিয়েস্টারের আরামের দুটি বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে কাজ করে। এর সুবিধাগুলো হলো ত্বকে চুলকানি তৈরি করে না, সহজে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় আবার দামেও কম।

৪. সুতি (Cotton)

সুতি খুব নরম ও আরামদায়ক ফেব্রিক, কিন্তু শীতে এর একমাত্র ব্যবহার শিশুকে খুব গরম রাখতে পারবে না, বিশেষ করে ঘরের বাইরে থাকলে। তবে এর সুবিধাগুলো হলো – এটি নরম ও ত্বকের জন্য নিরাপদ আবার ঘাম শোষণ করে রাখতে পারে। খেয়াল রাখার বিষয় হলো ঘাম শোষণ করে শুষ্ক হওয়ার পরে সুতির কাপড় ঠান্ডা অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই এর উপরের লেয়ার অবশ্যই উলের বা ব্লেন্ড ফেব্রিকের হতে হবে।

৫. উইন্ডপ্রুফ/ওয়াটারপ্রুফ ফেব্রিক

জ্যাকেট বা আউটার লেয়ারের জন্য উইন্ডপ্রুফ ও ওয়াটারপ্রুফ কাপড় খুব কার্যকর, কারণ শীতে বাতাস ও আর্দ্রতা শরীরের তাপ দ্রুত কমিয়ে দেয়। এই ফেব্রিকের সুবিধাগুলো হলো ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশার হাত থেকে রক্ষা করে ও শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। শীতে যে উইন্ডব্রেকার জ্যাকেটগুলো পাওয়া যায় সেগুলো মূলত উইন্ড ও ওয়াটারপ্রুফ কাপড় এ তৈরি।

সহজ টিপস: ফেব্রিক বাছাইয়ের জন্য

  • বেইজ লেয়ার হিসেবে কটন বা ফ্লিস, মিড-লেয়ারে উল বা ফ্লিস, আউটার লেয়ারের জন্য উইন্ডপ্রুফ ফেব্রিক বেছে নিন।
  • বাচ্চার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয়, তাহলে বেইজ লেয়ারের জন্য কটন বা ব্লেন্ড ফেব্রিক বেছে নিন।
  • শিশুদের পোশাক সাধারণত দ্রুত ময়লা হয় তাই ধোয়া ও শুকানো সহজ এমন ফেব্রিক বেছে নিন।

হিম শীতে শিশুর পোশাকের লেয়ারিং

শীতের দিনে শিশুকে গরম ও আরামে রাখতে লেয়ারিং সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একসাথে খুব মোটা পোশাক পরানোর বদলে কয়েকটি হালকা স্তরে পোশাক পরালে শিশুর শরীর গরম থাকে, আবার চলাফেরাতেও কোনো অসুবিধা হয় না। ঠিকভাবে লেয়ারিং করা হলে ঘাম জমে না, ঠান্ডা লাগার ঝুঁকিও কমে।

হিম শীতে শিশুর পোশাকের লেয়ারিং

বেইজ লেয়ার: ভেতরের প্রথম স্তর

এটাই শিশুর শরীরের যত্নশীল স্তর। তাই এই লেয়ারের কাপড় হওয়া উচিত নরম ও আরামদায়ক। যেমন: নরম কটন বা কটন-ব্লেন্ড ভালো অপশন। ছেলেদের জন্য ফুল হাতা টি-শার্টজিন্স আর মেয়েদের জন্য ফুল স্লিভ টিউনিক বা ফ্রকলেগিংস ব্যবহার করা যায়। মোটকথা ঘাম শোষণ করে এমন ফেব্রিক হলে বেশি আরাম পাওয়া যায়। মূলত এই লেয়ার শিশুর ত্বককে আরাম দেয় এবং ভেতর থেকে উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

শীতে শিশুর পোশাকের লেয়ারিং

মিড লেয়ার: গরম ধরে রাখার স্তর

মিড লেয়ারের কাজ হলো শরীরের তাপ আটকে রাখা। এটি বেইজ লেয়ারের উপর পরানো হয়। যেমন: ফ্লিস সোয়েটার, সোয়েটশার্ট, হুডি বা হালকা উলের পোশাক। তবে খেয়াল রাখবেন খুব ভারী না হয়ে যেন হালকা ও নরম হয়। ঘরের ভেতরে থাকলে বেশিরভাগ সময় এই দুই স্তরই যথেষ্ট। কারণ এই লেয়ার শিশুকে গরম রাখে, কিন্তু ভারী ভাব দেয় না।

শীতে শিশুর জ্যাকেট

আউটার লেয়ার: বাইরের সুরক্ষা

শিশু বাইরে গেলে আউটার লেয়ার খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশা থেকে রক্ষা করে। সেক্ষেত্রে উইন্ডপ্রুফ বা হালকা প্যাডেড জ্যাকেট মানানসই। আবার হুডি জ্যাকেট হলে মাথাও ঠান্ডা থেকে সুরক্ষিত থাকে। স্কুল বা আউটিংয়ের জন্য এই লেয়ার সবচেয়ে দরকারি। বাইরে যাওয়ার সময় এই লেয়ার শিশুর শরীরের উষ্ণতা ধরে রাখে।

Pink Cotton A-line Tunic

বাড়তি লেয়ারিং এক্সেসরিজ

মোটা মোজা, উলের টুপি (Unisex Beanie Caps), মাফলার, গ্লাভস বা মিটেনস এগুলো ছোট হলেও শীতে খুব কাজে আসে, কারণ শরীরের এই অংশগুলো দিয়েই ঠান্ডা বেশি লাগে।

সহজ লেয়ারিং টিপস

  • খুব বেশি লেয়ার পরিয়ে শিশুকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না।
  • শিশুর শরীর গরম বা ঘামছে কি না মাঝে মাঝে খেয়াল করুন।
  • ঘরের ভেতর ও বাইরে অনুযায়ী লেয়ার কম-বেশি করুন।

ঠিকভাবে লেয়ারিং করলে শীতের দিনগুলো শিশুর জন্য থাকে নিরাপদ, আরামদায়ক আর আনন্দে ভরপুর।

শীতে শিশুর পোশাক

শীতে শিশুর পোশাকের যত্ন

শীতের দিনে শিশুর পোশাক শুধু গরম হলেই যথেষ্ট নয়, সঠিকভাবে যত্ন নেওয়াটাও খুব জরুরি। কারণ এই সময় পোশাক বেশি সময় ব্যবহার হয়, ঘাম লাগে, আবার অনেক পোশাক ঠিকমতো শুকাতেও সময় নেয়। একটু যত্ন নিলে শিশুর পোশাক দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং শিশুও থাকে আরামে।

নিয়মিত পরিষ্কার রাখা

শীতকালে পোশাক কম ধোয়া হয় বলে অনেক সময় ভেতরে ঘাম বা ধুলা জমে থাকে। তাই ভেতরের পোশাক ও বেইজ লেয়ার নিয়মিত ধোয়া উচিত। বাইরে পরার জ্যাকেট বা সোয়েটার বারবার না ধুয়ে বাতাসে শুকানো যেতে পারে। পোশাকে দুর্গন্ধ বা আর্দ্রতা থাকলে অবশ্যই পরিষ্কার করুন।

সঠিকভাবে ধোয়া শুকানো

শীতের পোশাকের ফেব্রিক সাধারণ পোশাকের চেয়ে একটু আলাদা হয়, তাই ধোয়ার সময় বাড়তি যত্ন দরকার। হালকা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত। খুব গরম পানিতে ধোয়া থেকে এড়িয়ে চলুন। ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন, যেন ভেতরে ভেজাভাব না থাকে। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পোশাক শিশুর ঠান্ডা লাগার কারণ হতে পারে।

শীতে রোদ কম থাকলেও যতটা সম্ভব পোশাক রোদে বা খোলা বাতাসে শুকান। পোশাকের ভেতরে যেন আর্দ্রতা না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখুন। শুকানোর পর কিছু সময় ঝুলিয়ে রাখলে পোশাক ফ্রেশ থাকে। দীর্ঘদিন ভেজা থাকলে গন্ধ বা ছত্রাক হতে পারে, তাই আবহাওয়া দেখে ধুয়ে নিন।

শীতে শিশুর পোশাক

নরম রাখার দিকে খেয়াল রাখা

শীতের পোশাক অনেক সময় শক্ত হয়ে যায়, যা শিশুর ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করে। খুব বেশি কেমিক্যালযুক্ত সফটনার ব্যবহার না করাই ভালো। ধোয়ার পর পোশাক হাতে চেপে নরম করে নিলে আরাম পাওয়া যায়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য নরম ফেব্রিক বেছে নিন।

শীত যেমনই হোক শিশুর শীতের পোশাক নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুর আরাম। শীতের দিনগুলো শিশুর জন্য আরামদায়ক রাখতে পোশাক বাছাইয়ে একটু সচেতন হতে হবে। ঠিকঠাক লেয়ারিং, নরম ফেব্রিক আর নিয়মিত যত্ন শিশুকে গরম রাখার পাশাপাশি স্বাচ্ছন্দ্যও দেয়। হিম শীতে শিশুর পোশাক যদি ব্যবহার উপযোগী আর আরামদায়ক হয়, তাহলে খেলাধুলা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের সময়টা শিশুর জন্য হয়ে ওঠে আরও নিরাপদ ও আনন্দের।

লেখক: ফাতেমাতুজ্জোহরা আফিয়া

  • No products in the cart.
Filters